হরিতকীর উপকারিতা, খাওয়ার নিয়ম ও অপকারিতা
হরিতকী কী, এর উপকারিতা ও অপকারিতা, খাওয়ার নিয়ম ও ঋতু অনুযায়ী অনুপান, সাত প্রকার হরিতকী, চুল-ত্বকে ব্যবহার, দাম এবং কারা এড়াবেন নিয়ে বাংলায় গাইড।
অAI-সহায়তায় গবেষণা ও খসড়া; সম্পাদনা, যাচাই ও তথ্যের দায়ভার লেখক অভিজিৎ সাউ-এর। সম্পাদকীয় নীতি ও গবেষণা পদ্ধতি।

সূচিপত্র
আয়ুর্বেদে একটিমাত্র ফলকে বলা হয়েছে "সর্বরোগ-প্রশমনী", অর্থাৎ সব রোগ শান্ত করার ক্ষমতা যার আছে বলে শাস্ত্রে দাবি করা হয়, সেই ফলের নাম হরিতকী। বানানভেদে অনেকে হরীতকীও লেখেন, ফল একটাই।
হরিতকীর প্রধান পরিচিত ব্যবহার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা ও হজমে সাহায্য করা, আর খাওয়ার সহজ নিয়ম হলো রাতে ১/৪ থেকে ১/২ চা-চামচ চূর্ণ কুসুম গরম জলের সঙ্গে। এটি ত্রিফলার তিন ফলের অন্যতম, উষ্ণ-প্রকৃতির ও তীক্ষ্ণ বলে পরিচিত, তাই উপকারের পাশাপাশি কিছু সতর্কতাও আছে। আজকের লেখায় থাকছে হরিতকী কী, এর উপকারিতা ও অপকারিতা, খাওয়ার নিয়ম ও ঋতু অনুযায়ী অনুপান, সাত প্রকার হরিতকী, দাম, আর কারা এড়িয়ে চলবেন। মনে রাখবেন, এটি চিকিৎসা পরামর্শ নয়, পরিবার ও ঐতিহ্যের ভেষজ-জ্ঞান নিয়ে একটি তথ্যমূলক আলোচনা।
এক নজরে
- হরিতকী কী। Terminalia chebula গাছের শুকনো ফল, ত্রিফলার অন্যতম, আয়ুর্বেদে "রাজ-ভেষজ" নামে পরিচিত।
- প্রধান উপকার। কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজম, মুখগহ্বর ও দাঁত, চোখ, প্রতিরোধ ক্ষমতা।
- খাওয়ার নিয়ম। রাতে ১/৪ থেকে ১/২ চা-চামচ চূর্ণ কুসুম গরম জলে, ঋতু অনুযায়ী অনুপান বদলায়।
- অপকারিতা। বেশি খেলে পাতলা পায়খানা, ডিহাইড্রেশন, মুখ শুকিয়ে যাওয়া।
- কারা এড়াবেন। গর্ভবতী, দুর্বল শরীর, ডায়রিয়া, রক্ত-পাতলা বা ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণকারী।
হরিতকী কী ও কোথা থেকে আসে?
হরিতকী (Terminalia chebula) একটি মাঝারি থেকে বড় পর্ণমোচী গাছের শুকনো ফল, যার আদি নিবাস বাংলাদেশ, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। গাছটি প্রায় ৪০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে, আর ফল ছোট সবুজ অবস্থা থেকে পরিপক্ব হলুদ-বাদামি হয়ে শুকিয়ে গেলে কুঁচকানো-কালচে রূপ নেয়, বাজারে আমরা এই শুকনো ফলই দেখি। বাংলায় একে হরিতকী বা হরতকি, ইংরেজিতে chebulic myrobalan বা inknut, হিন্দিতে হরড় (harad), তামিলে কাডুক্কাই এবং মারাঠিতে হিরদা নামে ডাকা হয়, ফল একটাই।
চরক ও সুশ্রুত সংহিতায় হরিতকীকে "অভয়া" নামেও ডাকা হয়েছে, যার অর্থ ভয়হীন করে যে। সুশ্রুত লিখেছেন, যে গৃহে হরিতকী আছে সেখানে রোগ-আশঙ্কা কম। শাস্ত্রে এটিকে ত্রিফলার প্রধান উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যদিও পরিমাণে তিন ফলই সমান।
আয়ুর্বেদে হরিতকীর পাঁচ-রস উল্লেখ আছে, মধুর, অম্ল, কটু, তিক্ত ও কষায়, শুধু লবণ-রস বাদ। এই পাঁচ-রসের কারণেই একে ত্রিদোষ-শামক বলা হয়েছে, অর্থাৎ বাত, পিত্ত ও কফ, তিন দোষের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক বলে ধরা হয়।
হরিতকীর উপকারিতা
হরিতকীর সবচেয়ে পরিচিত উপকার অন্ত্র ও হজম-সংক্রান্ত, তবে শাস্ত্র ও প্রাথমিক গবেষণায় আরও কয়েকটি ক্ষেত্রেও এর আলোচনা মেলে। মনে রাখবেন, নিচের প্রতিটি দাবি সম্ভাবনার কথা, নিশ্চিত নিরাময় নয়।
- কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য। হরিতকীর ভেদনীয় ও পিচ্ছিল গুণ অন্ত্রের স্বাভাবিক চলাচলে সাহায্য করে বলে শাস্ত্রে ধরা হয়, এটিই এর সবচেয়ে পরিচিত ব্যবহার, বিস্তারিত কোষ্ঠকাঠিন্যের লেখায়।
- হজম ও পেটের গ্যাস। পাচন-অগ্নি উদ্দীপনে হরিতকী সহায়ক বলে উল্লিখিত, আর বাত-দোষের অস্বাভাবিক গতি স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে বলে পেটের গ্যাসের লেখায় আলোচনা করেছি, দেখুন হজম শক্তির লেখাও।
- মুখগহ্বর ও দাঁত। কষায় রসে ভরা হরিতকী চিবোলে বা কুলকুচি করলে মাড়ি ও দাঁতের যত্নে সহায়ক বলে ঐতিহ্যে বিশ্বাস।
- চোখের যত্ন। শাস্ত্রে হরিতকীকে "চক্ষুষ্য" বলা হয়েছে, অর্থাৎ চোখের জন্য হিতকর বলে মনে করা হয়।
- প্রতিরোধ ক্ষমতা। চ্যবনপ্রাশের অন্যতম উপাদান হিসেবে হরিতকী দীর্ঘকাল ব্যবহৃত, এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগগুলো এই ভূমিকার পেছনে থাকতে পারে বলে ধারণা।
- রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল। প্রাথমিক গবেষণায় আলোচিত হলেও মানুষের উপর প্রমাণ সীমিত, তাই এটিকে ওষুধের বিকল্প ভাবা ঠিক নয়।
- যকৃতের সুরক্ষা। ২০১৭ সালের একটি প্রাণী-গবেষণায় (ইঁদুরের উপর) হরিতকীর নির্যাস লিভারের অক্সিডেটিভ ক্ষতি কমাতে সহায়ক দেখা গেছে, তবে মানুষের উপর প্রমাণ এখনো সীমিত।
- ত্বক, চুল ও ডার্ক সার্কেল। বাহ্যিক ব্যবহারে হরিতকী রূপচর্চায় বেশ জনপ্রিয়, চুল পড়া বা খুশকির মূল সমাধানে আলাদা লেখা আছে, আর রূপচর্চার বিস্তারিত নিচে আলাদা অংশে দিয়েছি।
ত্রিফলার তিন ফলের মধ্যে হরিতকী উষ্ণ-প্রকৃতির, আর আমলকী শীতল-প্রকৃতির, তাই দুটির ভূমিকা আলাদা, একটি বাত-শান্তিতে বেশি, অন্যটি পিত্ত-শান্তিতে।
সাত প্রকার হরিতকী
অষ্টাঙ্গ হৃদয়-এ বাগ্ভট সাত প্রকার হরিতকীর কথা বলেছেন, প্রতিটির আকার, রং ও ব্যবহার সামান্য ভিন্ন। বাজারে সাধারণত যা মেলে তা মূলত অভয়া বা চেতকী শ্রেণির, যা ঘরোয়া ব্যবহারে সবচেয়ে পরিচিত।
| প্রকার | শাস্ত্রীয় ব্যবহার (সংক্ষেপে) |
|---|---|
| বিজয়া | সর্বরোগে সাধারণ ব্যবহার্য বলে উল্লিখিত |
| রোহিণী | ক্ষত ও ঘা-এ |
| পূতনা | বাহ্যিক প্রলেপে |
| অমৃতা | শোধনে |
| অভয়া | চোখের যত্নে |
| জীবন্তী | সাধারণ বল্য হিসেবে |
| চেতকী | চূর্ণ ও ঘরোয়া ব্যবহারে |
আধুনিক গবেষণা কী ইঙ্গিত দেয়?
আধুনিক গবেষণায় হরিতকীর সম্ভাব্য উপকার নিয়ে আগ্রহ থাকলেও মানুষের উপর বড় মাপের প্রমাণ এখনো সীমিত। NCBI PubMed-এ Terminalia chebula নিয়ে বহু গবেষণাপত্র আছে, আর Journal of Ayurveda and Integrative Medicine-এ প্রকাশিত রিভিউতে এর দিকগুলো আলোচিত হয়েছে।
বিভিন্ন উৎসে উল্লেখ, হরিতকীর শুকনো ফলে প্রায় ৩২ থেকে ৪৫ শতাংশ ট্যানিন থাকে (chebulic acid, chebulinic acid, gallic acid, ellagic acid), সঙ্গে পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েড, এই যৌগগুলোই এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণের পেছনে কাজ করে বলে ধারণা করা হয়। তবে অধিকাংশ গবেষণাই ল্যাবে বা প্রাণীর উপর, তাই ঘরোয়া ব্যবহারে অতিরিক্ত প্রত্যাশা না রাখাই ভাল।
হরিতকী খাওয়ার নিয়ম
হরিতকী খাওয়ার নিয়মে অনুপান, অর্থাৎ সঙ্গে কী মেশানো হবে, বড় ভূমিকা রাখে। নিচের পদ্ধতিগুলো সাধারণ ঘরোয়া ব্যবহারের জন্য, সবসময় অল্প মাত্রায় শুরু করবেন। চূর্ণ ছাড়াও আজকাল হরিতকী ট্যাবলেট, ক্যাপসুল ও চিত্রক হরিতকীর মতো তৈরি রূপেও মেলে, তবে যেকোনো রূপে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।
- চূর্ণ ও কুসুম গরম জল, রাতে শোয়ার আগে ১/৪ থেকে ১/২ চা-চামচ চূর্ণ আধ গ্লাস কুসুম গরম জলে, কোষ্ঠ পরিষ্কারে সহায়ক বলে শাস্ত্রে উল্লিখিত।
- মধুর সঙ্গে, সকালে অল্প মধুর সঙ্গে চূর্ণ, কফ-দোষে। মধু কখনো গরম জলে বা গরম অবস্থায় মেশাবেন না, শাস্ত্রে এটি নিষিদ্ধ।
- ঘি-র সঙ্গে, শীতকালে অল্প গাওয়া ঘি-র সঙ্গে, বাত-দোষে।
- গুড়ের সঙ্গে, ক্লান্তি ও দুর্বলতায়, শাস্ত্রের পুরনো পদ্ধতি।
- চিবিয়ে খাওয়া, শুকনো হরিতকী ছোট টুকরো করে চিবোলে মুখগহ্বর ও দাঁতের যত্নে।
- ক্বাথ, ১০ গ্রাম শুকনো ফল ২ কাপ জলে ফুটিয়ে ১ কাপে নামিয়ে ছেঁকে, মাথা ব্যথা ও সাইনাসে শাস্ত্রে আলোচিত।
- বাহ্যিক ব্যবহারে, চূর্ণ জলে গুলে মাড়ির যত্নে কুলকুচি বা ক্ষত-প্রক্ষালনে।
ঋতু অনুযায়ী অনুপান
শাস্ত্রে হরিতকীর একটি বিশেষ নির্দেশ আছে, ঋতু বদলালে সঙ্গে মেশানোর উপাদানও বদলায়। এই ঋতু-অনুপান নিচের টেবিলে দেওয়া হলো।
| ঋতু | অনুপান |
|---|---|
| শরৎ | মিছরি বা চিনি |
| হেমন্ত | শুঁঠ (শুকনো আদা গুঁড়ো) |
| শীত | পিপুল (long pepper) |
| বসন্ত | মধু |
| গ্রীষ্ম | গুড় |
| বর্ষা | সৈন্ধব লবণ |
এটি ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান, সব ঘরে সব ঋতুতে অনুসরণ করা কঠিন। অনেক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক মনে করেন, সারা বছরের জন্য কুসুম গরম জল-ই সহজ ও নিরাপদ অনুপান।
হরিতকী দিয়ে রূপচর্চা, ত্বক ও চুলের যত্ন
হরিতকী শুধু খাওয়ার জিনিস নয়, বাহ্যিক রূপচর্চাতেও এর ব্যবহার আছে, বিশেষত ডার্ক সার্কেল, ত্বকের দাগ ও চুলের যত্নে। তবে মনে রাখবেন, এগুলো ঐতিহ্যবাহী ঘরোয়া ব্যবহার, সবার ত্বকে এক রকম কাজ করে না, তাই ব্যবহারের আগে ছোট একটি প্যাচ-টেস্ট করে নেওয়া জরুরি।
- ডার্ক সার্কেলে। এক চামচ হরিতকী গুঁড়ো, আধ চামচ অ্যালোভেরা জেল ও ২ ফোঁটা আমন্ড তেল মিশিয়ে ঘন পেস্ট বানিয়ে চোখের নিচে হালকা লাগান, ১৫ মিনিট রেখে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। মনে রাখবেন, চোখের নিচের কালি ঘুমের অভাব, বংশগতি বা রক্তাল্পতার কারণেও হয়, শুধু প্রলেপে তা পুরো যায় না।
- ত্বকের দাগ ও উজ্জ্বলতায়। হরিতকীর কষায় ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ ত্বকের দাগ কমাতে সহায়ক বলে ঐতিহ্যে বিশ্বাস, বিস্তারিত মুখের দাগের লেখায় ও ত্বকের যত্নের লেখায় দেখুন।
- চুল ও খুশকিতে। নারকেল তেলে হরিতকী গুঁড়ো মিশিয়ে মাথায় লাগালে চুলের গোড়া ও খুশকিতে সহায়ক বলে অনেকে জানান, তবে খুশকির মূল সমাধানে আলাদা লেখা দেখুন।
ত্বকে জ্বালা, লালচে ভাব বা অ্যালার্জি দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
হরিতকীর দাম ও চিনে নেওয়া
হরিতকী বাজারে শুকনো গোটা ফল ও চূর্ণ, দুই রূপেই পাওয়া যায়, আর গোটা ফল সাধারণত সস্তা। অনলাইনে হরিতকী চূর্ণ কয়েকশো টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়, যেমন একটি বিক্রেতায় দাম দেখা গেছে প্রায় ৳২৫০ (জুলাই ২০২৬, প্যাক-আকার অনির্দিষ্ট)।
এখানে দেওয়া দাম শুধু তথ্যের জন্য, জুলাই ২০২৬ অনুযায়ী আনুমানিক, বিক্রেতা, প্যাক-আকার ও সময়ভেদে বদলাতে পারে, তাই কেনার আগে যাচাই করে নেবেন। কোনো ব্র্যান্ড বা দোকানের নাম উল্লেখ করা মানে আমরা তার প্রচার বা সুপারিশ করছি, তা নয়।
ভাল গুণমানের হরিতকী চূর্ণে হালকা টক-কষায়-তিতা গন্ধ থাকে। শুকনো, বায়ুরোধী কাচের পাত্রে, সূর্যের আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। দুর্গন্ধ, ছত্রাক বা পোকা দেখলে অবিলম্বে ফেলে দিন, সাধারণত ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে শেষ করা ভাল।
হরিতকীর অপকারিতা ও কে সতর্ক থাকবেন
হরিতকীর শক্তিই এর সতর্কতার কারণ, তাই স্বাস্থ্যের প্রশ্ন বলে এই অংশটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত মাত্রায়, অর্থাৎ দিনে ১ চা-চামচের বেশি খেলে, পেটে অস্বস্তি, পাতলা পায়খানা, ডিহাইড্রেশন ও মুখে শুষ্কতা হতে পারে। সবসময় ১/৪ চা-চামচ দিয়ে শুরু করে শরীরের প্রতিক্রিয়া দেখুন।
নিচের ক্ষেত্রে হরিতকী এড়িয়ে চলুন বা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- গর্ভবতী মহিলারা, শাস্ত্রে স্পষ্ট নিষেধ
- স্তন্যদানকারী মা, প্রথম কয়েক মাস
- ৫ বছরের নিচের শিশু, বিনা পরামর্শে নয়
- অতিরিক্ত দুর্বল বা অপুষ্টি-জর্জরিত ব্যক্তি, ভেদনীয় গুণে শক্তি ক্ষয় হতে পারে
- দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বা আমাশয়, অবস্থা বাড়াতে পারে
- সদ্য অস্ত্রোপচারের পরে
- নিয়মিত রক্ত-পাতলা করার ওষুধ গ্রহণকারী, সম্ভাব্য মিথস্ক্রিয়া
- ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণকারী, রক্তে শর্করা অতিরিক্ত নেমে যাওয়ার আশঙ্কা
- অতিরিক্ত মাসিকের ক্ষেত্রে
- শরীরে অতিরিক্ত শুষ্কতা ও বাত-প্রকোপে, পরিমিত ও যত্নসহকারে
একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ
আমার মনে হয় হরিতকীর সবচেয়ে আশ্চর্যের দিকটি এর ঋতু-নির্ভরতা। ছোটবেলায় দেখতাম, বাড়ির প্রবীণরা চামড়ার থলিতে শুকনো কালচে-বাদামি হরিতকী রেখে দিতেন, আর শীতের সকালে মুখে ফেলে চিবোতেন। অথচ আধুনিক সাপ্লিমেন্ট বিজ্ঞাপন বলে "সারা বছর প্রতিদিন", যেখানে ২,৫০০ বছর আগেই শাস্ত্রে লেখা ছিল এক ভেষজও সব ঋতুতে একইভাবে কাজ করে না। আমি লক্ষ্য করেছি, শীতে কুসুম গরম জলে যে হরিতকী আমাকে হালকা বোধ করায়, গ্রীষ্মে সেটাই মাঝে মাঝে অস্বস্তি তৈরি করে। আপনি কি কখনো খেয়াল করেছেন, একই জিনিস একেক ঋতুতে শরীরে একেক রকম লাগে?
সংক্ষেপে
হরিতকী আয়ুর্বেদের অন্যতম শ্রদ্ধেয় ভেষজ, "রাজ-ভেষজ", "অভয়া", "সর্বরোগ-প্রশমনী" নামে পরিচিত। কোষ্ঠকাঠিন্য, হজম, প্রতিরোধ ক্ষমতা, চোখ ও মুখগহ্বরের যত্নে শাস্ত্র ও প্রাথমিক গবেষণায় এর আলোচনা মেলে। তবে এর শক্তিই এর সতর্কতার কারণ, গর্ভাবস্থা, দুর্বল শরীর, ডায়রিয়া ও কিছু ওষুধের সঙ্গে এটি এড়িয়ে চলা বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আজ থেকেই যদি শুরু করতে চান, প্রথম সপ্তাহে রাতে মাত্র ১/৪ চা-চামচ চূর্ণ কুসুম গরম জলে নিয়ে শরীরের প্রতিক্রিয়া দেখুন, আর বাণিজ্যিক প্রচারে অতিরিক্ত নির্ভর করবেন না। আয়ুর্বেদের সৌন্দর্য তার সূক্ষ্মতায়, সেই সূক্ষ্মতাকে সম্মান করাই আসল কাজ।
সূত্র / Sources
- Terminalia chebula সংক্রান্ত গবেষণা, NCBI PubMed: pubmed.ncbi.nlm.nih.gov
- হরিতকী ও লিভার সুরক্ষা (প্রাণী-গবেষণা, ২০১৭), NCBI PMC: pmc.ncbi.nlm.nih.gov
- Journal of Ayurveda and Integrative Medicine (Elsevier, ওপেন অ্যাক্সেস): sciencedirect.com
- Ministry of AYUSH, Government of India: ayush.gov.in
- চরক সংহিতা, সুশ্রুত সংহিতা ও অষ্টাঙ্গ হৃদয়, হরিতকী ও সাত প্রকার প্রসঙ্গ (ধ্রুপদী রেফারেন্স)।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। এটি চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর

লেখক সম্পর্কে
অভিজিৎ সাউ
তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক
তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত একজন প্রকৌশলী। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলা ভাষায় আয়ুর্বেদ, ভেষজ ও প্রাকৃতিক জীবনযাত্রার বিশ্বস্ত তথ্য সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিটি নিবন্ধের পেছনে শাস্ত্রীয় গ্রন্থ, AYUSH মন্ত্রকের নির্দেশিকা ও প্রকাশিত গবেষণাপত্র যাচাই করি।
এই নিবন্ধটি প্রকাশের আগে প্রাথমিক উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই ও সম্পাদনা করা হয়েছে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি।

যষ্টিমধুর উপকারিতা, খাওয়ার নিয়ম ও কাদের ঝুঁকি বেশি
যষ্টিমধুর উপকারিতা কাশি, গলা ব্যথা ও অম্লে, সঠিক খাওয়ার নিয়ম ও মাত্রা, আর উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির সমস্যায় কেন যষ্টিমধু এড়ানো জরুরি, বাংলায় বিস্তারিত গাইড।

রসুনের আয়ুর্বেদিক ব্যবহার — কোলেস্টেরল, ঠান্ডা, বাত ও হজমে গুণ
রসুনের আয়ুর্বেদিক রস-বীর্য-বিপাক, কোলেস্টেরল-হৃদরোগ গবেষণা, ঠান্ডা-কাশি-বাত-হজমে ব্যবহার, কাঁচা ও রান্না-করা রসুনের পার্থক্য এবং কারা সতর্ক, বাংলা গাইড।

করলার উপকার — ডায়াবেটিস, লিভার ও ত্বকে আয়ুর্বেদিক তেতো সবজি
করলার আয়ুর্বেদিক রস-গুণ, রক্তে শর্করা ও লিভারে সম্ভাব্য ভূমিকা, করলার জুস কীভাবে বানাবেন, কতটুকু খাবেন এবং কারা সতর্ক থাকবেন, বাঙালি গাইডে সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা।